প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ নভেম্বর ২০২৫
মনোনয়ন স্থগিতে কিশোরগঞ্জ-১ ও ৫ আসনে তীব্র অসন্তোষ
নিউজ ডেস্ক, বাজিতপুর নিউজ ||
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের ছয়টি নির্বাচনি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করলেও গুরুত্বপূর্ণ কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর) এবং কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর ও নিকলী) আসনে প্রার্থীতা স্থগিত রাখায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই দুটি আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ-সমাবেশ করছেন। তাদের মূল দাবি, অবিলম্বে ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে।কিশোরগঞ্জের মোট ছয়টি আসনের মধ্যে বিএনপি চারটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে:কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া): অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন (জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি)কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল): ড. এম ওসমান ফারুক (কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট)কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম): অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান (বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা)কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব ও কুলিয়ারচর): মো. শরীফুল আলম (কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি)অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ-১ ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে।স্থগিত থাকা আসন দুটিতে অতীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এমন নেতারা এবং এবার আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন:কিশোরগঞ্জ-১: বিগত ২০০৭ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খান চুন্নু (জেলা বিএনপির সহসভাপতি), জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, ব্যারিস্টার আতিকুর রহমান এবং আ ঈ ম ওয়ালী উল্লাহ রাব্বানী।কিশোরগঞ্জ-৫: ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল (কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি)।বিএনপি ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই এই দুই আসনে অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কর্মী-সমর্থকরা দ্রুত প্রার্থী ঘোষণার দাবিতে নিয়মিতভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সভা-সমাবেশ করছেন।কিশোরগঞ্জ-১ আসনের পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন দিলু বলেন, "আমাদের লোকজন পছন্দের নেতার পক্ষে মিছিল-সমাবেশ, শোডাউন করছে। আমাদের দাবি, বিগত স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের আমলে যারা হামলা-মামলা, নিপীড়ন-নির্যাতন উপেক্ষা করে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন, এমন ত্যাগী ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকে অবিলম্বে ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায় দল চরম ক্ষতির মুখে পড়বে।"এদিকে, কিশোরগঞ্জ-৫ আসন নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে যে এটি শরিক দলকে দেওয়া হতে পারে। এই গুঞ্জন আরও বেশি ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, "চরম দুর্দিনে যে বিএনপি নেতা দলের আদেশ মেনে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পাশে ছিলেন, তেমন ব্যক্তিকে দলীয় প্রার্থী করতে হবে। শরিক দলের কাউকে আসনটি দেওয়ার গুঞ্জনের ফলে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ-সমাবেশ, এমনকি রেলপথ অবরোধ করে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।"কর্মী-সমর্থকদের দৃঢ় অবস্থান এটাই স্পষ্ট করে যে, এ দুটি আসনে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে দলীয় বিরোধ ও বিভক্তি আরও তীব্র হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোঃ মোশিউর রহমান আতিক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ঃ মোহাম্মদ খলিলুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ বাজিতপুর নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত