প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ নভেম্বর ২০২৫
বাজিতপুরে অস্ত্রসহ এহসানুল হুদা গ্রুপের ২২ জন আটক
নিউজ ডেস্ক, বাজিতপুর নিউজ ||
কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) সংসদীয় আসনে দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার জেরে প্রভাব বিস্তারের জন্য মহড়া দেওয়ার সময় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ মোট ২২ জনকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। আটককৃত সবাই ১২ দলীয় জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ জাতীয় দলের সভাপতি ও সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদার অনুসারী বলে জানা গেছে।শনিবার (২২ নভেম্বর) দিবাগত রাতে বাজিতপুর উপজেলার নান্দিনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন রবিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে গণমাধ্যমকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।আটককৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে: তুরস্কের তৈরি ৬ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি পিস্তল (যা নান্দিনা এলাকার গোলাম সারোয়ার ভুবনের (২৭) কাছে ছিল)। একটি রামদাসহ বেশ কয়েকটি স্টিলের পাইপ সহ অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র।স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বেশ কিছুদিন ধরেই এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল এবং সৈয়দ এহসানুল হুদার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।শনিবার দুপুরে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে তার সমর্থকরা বাজিতপুর-নিকলী সড়কে প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।পরে সন্ধ্যায় গণসংযোগ চালানোর সময় সৈয়দ এহসানুল হুদা প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে উত্তেজনাকর বক্তব্য দিলে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের সমর্থকরা তার মিছিলে যোগ দিতে আসা কয়েকটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।এই হামলার ঘটনার জেরে রাতেই সৈয়দ এহসানুল হুদার লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছিল। খবর পেয়ে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে বাজিতপুর থানায় হস্তান্তর করে।এর আগে সৈয়দ এহসানুল হুদার মিছিলে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে উদ্দেশ করে সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। মিছিলে তিনি বলেছিলেন:"ইকবাল-মনির আমাকে চোখ রাঙিয়েও না, নিজেদের কবর খুরতে হবে: আমাকে যদি হামলা করতে হয় আমাকে মাইরা ফালাইতে হইবো। বাইচা থাকলে একটাও বাঁচতে পারবি না।"শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি। তিনি ২০০১ মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এই হুমকির ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ওসি মো. মুরাদ হোসেন জানান, এ বিষয়ে আটক ২২ জনের নামে মামলা দায়েরের কাজ চলছে এবং আজ (রবিবার) বিকেলের মধ্যেই সবাইকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।সাধারণ মানুষ এই প্রকাশ্য হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাজিতপুর-নিকলী এলাকার মানুষ আশা করছেন, রাজনীতিতে যেন সহিংসতা বা অস্ত্রের ব্যবহার না হয় এবং সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার চর্চা করতে পারে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সেনা সূত্র জানিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ মোঃ মোশিউর রহমান আতিক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ঃ মোহাম্মদ খলিলুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ বাজিতপুর নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত