কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনটি একসময় আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এখানকার মাঠের রাজনীতি সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে এলাকাছাড়া থাকা বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা এখন পুনরায় মাঠে সক্রিয়। নতুন করে সাজানো দলীয় কার্যালয়গুলো এখন সরগরম। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনে বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাজিতপুর ও নিকলী—এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি ২০০৮ সাল পর্যন্ত ছিল বিএনপির একটি বড় দুর্গ। ২০০৮ সালের পর আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, রাষ্ট্র সংস্কারসহ অন্যান্য ইসলামী দলগুলো এলাকায় এলাকায় উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে শুরু করে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের তৎপরতা ব্যাপক।
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির একাধিক যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন:
এহসান কুফিয়া: বাজিতপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র। তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী জানিয়ে বলেন, "দীর্ঘ ১৭ বছর বিভিন্ন হামলা-মামলা অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েও জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ত থেকেছি। আমার বিশ্বাস, দল আমাকে নিরাশ করবে না।"
সৈয়দ এহসানুল হুদা (জাতীয় দল): ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জাতীয় দলের চেয়ারম্যান। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমদের স্বাক্ষরিত চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নেতারা তাকে সহযোগিতা করছেন এবং তিনি বিএনপির সঙ্গে সমন্বয় করে দুই উপজেলাতেই গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু: প্রয়াত তিনবারের সংসদ সদস্য আমির উদ্দীন আহমেদের পুত্র ও নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি। তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করছেন।
মোস্তাফিজুর রহমান মামুন: সাবেক দুবারের সংসদ সদস্য প্রয়াত মজিবুর রহমান মঞ্জুর পুত্র ও মজিবুর রহমান স্মৃতি সংসদের সভাপতি। তিনি সক্রিয়ভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যান্যরা: বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মো. জলিল, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস মো. বদরুল আলম শিপু, ছাত্রদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শফিকুল আলম রাজন এবং সাবেক সচিব আব্দুল ওয়াহাব (বাজিতপুর, মাইজচর বাড়ি) বিএনপির হয়ে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা যায়।
নিকলীর দুর্বলতা: জানা গেছে, নিকলী উপজেলায় অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু ও মো. বদরুল আলম শিপু'র গণসংযোগ দেখা গেলেও, বাজিতপুরে তাদের কোনো কর্মসূচি বা প্রার্থিতার পক্ষে গণসংযোগ এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী এই আসনে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মো. রমজান আলীর নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে দুই উপজেলাতেই এককভাবে জোরেশোরে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সাংগঠনিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
এছাড়াও, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম এই আসনে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। তিনি জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশায় নিজের পক্ষে জনমত গড়ে তুলছেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা যায়।
ভোটাধিকার থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত এই আসনের মানুষ এখন অপেক্ষায় আছেন নিজেদের মতামত প্রকাশ করার।

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ নভেম্বর ২০২৫

সংবাদ নয়, সংযোগ | বাজিতপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ, জাতীয় ঘটনা, খেলাধুলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মতামত - সব একসাথে এখানেই।
গাজিরচর, বাজিতপুর ২৩৩৬, কিশোরগঞ্জ, ঢাকা-বাংলাদেশ।
০১৩৩৬৬৩৩২৭৭ ০১৩১৯৪৮৩৫২৭
editor@bajitpurnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মোশিউর রহমান আতিক
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোহাম্মদ খলিলুর রহমান
আপনার মতামত লিখুন