বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
বাজিতপুর নিউজ

পহেলা বৈশাখ পালন করা কি জায়েজ? MRA Production

প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৫

বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস বৈশাখ এবং ইংরেজী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস জানুয়ারি। তথা বাংলা নববর্ষ বা رأس السنة البنغالية বা NEW YEAR’S DAY বা বর্ষবরণ বা نيروز এই শব্দগুলো নতুন বছরের আগমন এবং এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত উৎসব-অনুষ্ঠানাদিকে ইঙ্গিত করে। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নিয়ে থাকে। পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশে জাতীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। সে হিসেবে এটি বাঙালিদের একটি সার্বজনীন লোকউৎসব হিসাবে বিবেচিত। নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, হাসিঠাট্টা ও আনন্দ-উল্লাস, সাজগোজ করে নারীদের অবাধ বিচরণ ও সৌন্দর্যের প্রদর্শনী, রাতে অভিজাত এলাকার ক্লাব ইত্যাদিতে মদ্যপান তথা নাচানাচি, পটকা ফুটানো, শাখা-সিঁদুরের রঙে (সাদা ও লাল) পোশাক পরিধান, বিয়ের মিথ্যা সাজে দম্পতি সাজিয়ে বর-কনের শোভাযাত্রা, মূর্তির (কুমির, প্যাঁচা, বাঘ ইত্যাদির মুখোশ) প্রদর্শনী, উল্কি আঁকা, মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে পয়লা বৈশাখ উদযাপন করছে। নববর্ষ উদযাপনে তাদের আনন্দ-ফূর্তি ক্রমেই যেন সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। বাংলা নববর্ষের নামে পৌত্তলিকতার প্রচার-প্রসার করা হচ্ছে, আর বলা হচ্ছে এটাই নাকি বাংলার সংস্কৃতি! (লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ) . প্রতি বছর দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মঙ্গল শোভাযাত্রা সহ নববর্ষ পালনের সরকারী নির্দেশের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এদেশের জনগণের উপর ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন? তাতে কি দেশে নিশ্চিতভাবেই মঙ্গল আসবে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয়েছেন? কে সেই নিশ্চয়তা দিল? তাহলে কি কোন মানুষ মঙ্গল-অমঙ্গলের মালিক? এদেশে ‘মঙ্গলবার’ স্রেফ একটি বার হিসাবে গণনা করা হয়। এক্ষণে এদিনটিকে যদি কেউ মঙ্গলময় ধারণা করেন এবং অন্য দিনকে অমঙ্গলের মনে করেন, তবে তিনি আর মুসলিম থাকবেন না। কেননা মুসলিমের নিকট মঙ্গল-অমঙ্গলের মালিক একমাত্র আল্লাহ। আর এই বিশ্বাসটাই আমাদের সংস্কৃতির উৎস। আমরা দৈনিক আল্লাহর নিকটে দুনিয়া ও আখেরাতের মঙ্গল চেয়ে দো‘আ করি এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চাই।ইসলামে শব্দ উচ্চারণেই সবকিছু। কারণ মুখে কালেমায়ে শাহাদাত উচ্চারণ ও অস্বীকারের মাধ্যমেই মুসলিম ও কাফের নির্ধারিত হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরোধিতা ‘মঙ্গল’ নামের কারণে নয়, বরং যে আক্বীদা-বিশ্বাস নিয়ে এই যাত্রা হচ্ছে তার বিরোধিতা, যা তাওহীদ বিশ্বাসের সাথে পুরাপুরি সাংঘর্ষিক। আমরা আগে মুসলমান, পরে বাঙালী। এদেশের সবাই বাংলাভাষী হলেও বিশ্বাস ও সংস্কৃতিতে আমরা মুসলিম ও কাফের দুইভাগে বিভক্ত। যেমন; কুরায়েশরা সবাই আরবীভাষী হলেও মুসলিম ও কাফের দুইভাগে বিভক্ত ছিলেন। মুসলিমরা তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতে বিশ্বাসী এবং কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করেন। অমুসলিমরা শিরকে বিশ্বাসী ও সে অনুযায়ী তাদের জীবন পরিচালনা করেন। আর শিরকের পাপ ক্ষমার অযোগ্য। ধর্ম ও সংস্কৃতি কখনই পৃথক নয়। বরং ধর্মই সংস্কৃতির মূল উৎস। আর ধর্মের ভিত্তিতেই দুই বাংলা ভাগ হয়েছে। ইসলামকে বাদ দিলে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বাদ দিতে হবে এবং পৌত্তলিক ভারতের সাথে মিশে গিয়ে স্বাধীনতা বিলীন করে দিতে হবে। (নোটনআত তাহরীক)

আপনার মতামত লিখুন