এই ডকুমেন্টারি ভিডিওতে আমরা চেষ্টা করেছি স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে ঘটে যাওয়া বাংলাদেশের কিছু অজানা, অপ্রকাশিত ও বিতর্কিত অধ্যায়গুলো সামনে আনার। আজ আমরা যাকে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান নামে চিনি, তার জীবনের এমন কিছু দিক ইতিহাসের বইয়ে খুব একটা লেখা হয়নি বা লেখা হলেও আড়ালে রাখা হয়েছে। ভিডিওতে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি— গাজীপুরের নববধূ ধর্ষণের কাহিনী – ১৯৭৪ সালে গাজীপুরে এক নববধূকে অপহরণ করে ধর্ষণ করা হয়। পুলিশ যখন ধর্ষককে ধরে ফেলে, তখন সে গর্বের সঙ্গে বলে ওঠে—“আমার কিছুই হবে না।” আশ্চর্যের বিষয়, কিছুক্ষণ পর শেখ মুজিব নিজে থানায় ফোন করে সেই ধর্ষককে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। ঘটনাটি শুধু একটি উদাহরণ, এমন হাজারো ঘটনা আছে যেখানে অপরাধীরা মুজিবের সুরক্ষা পেয়েছে। সিরাজ সিকদারের হত্যাকাণ্ড – স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটে সিরাজ সিকদারের মৃত্যুর মাধ্যমে। তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় চট্টগ্রামে। আর এ নিয়ে শেখ মুজিব সংসদে দাঁড়িয়ে গর্বের সঙ্গে বলেছিলেন—“কোথায় আজ সিরাজ শিকদার?” এটি ছিল সেই সময়ের রাষ্ট্র পরিচালনার একটি নির্মম বাস্তবতা। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ ও ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু – বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ঘটে ১৯৭৪ সালে। প্রায় ২০ লাখ মানুষ মারা যায় খাদ্যের অভাবে। অথচ শেখ মুজিব এই সংখ্যাকে অস্বীকার করে বলেছিলেন মাত্র ১৫-২০ হাজার মানুষ মারা গেছে, এবং তিনি বিদেশি সাংবাদিকদের উপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন। সত্যকে আড়াল করে সরকারের ব্যর্থতা ঢাকার এই প্রচেষ্টা ইতিহাসে কালো অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে। রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও গণহত্যা – শুধু জাসদের প্রায় ৪০ হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল এই সময়ে। রাজনৈতিক বিরোধী দলগুলোকে দমন করতে গুম, খুন, হত্যা—সবই ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। মুজিব শাসনামলে রাজনৈতিক বিরোধীদের জন্য বাংলাদেশ ছিল এক রক্তক্ষয়ী নরক। সংবাদপত্র দমন – শেখ মুজিব ১৯৭৫ সালে সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেন, শুধু ৪টি পত্রিকা চালু রাখেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল, যা ছিল একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি। বাকশাল প্রতিষ্ঠা – ১৯৭৫ সালে মুজিব বাকশাল গঠন করেন। এর মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সমাপ্তি ঘটে। সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে শুধু একটি দল রেখে পুরো দেশকে একদলীয় শাসনে পরিচালিত করার চেষ্টা করা হয়। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে চরমভাবে ধ্বংস করেছিল। এই ভিডিওতে আমরা সেই সব তথ্য-উপাত্ত একত্র করেছি যা সাধারণ মানুষ খুব বেশি জানে না। ইতিহাস শুধু প্রশংসা নয়, সমালোচনাও গ্রহণ করতে হবে। একটি জাতি যদি তার ইতিহাসের অন্ধকার দিকগুলো জানতে না পারে, তবে তারা বারবার একই ভুল করবে। আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে অপমান করা নয়, বরং সত্যকে সামনে আনা। স্বাধীনতার পর মাত্র ৩ বছরের মধ্যে কীভাবে একটি দেশ দুর্নীতি, হত্যা, দুর্ভিক্ষ, সংবাদপত্র দমন আর একদলীয় শাসনের কবলে পড়েছিল—সেই বাস্তবতাই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এই ভিডিওতে আলোচিত মূল বিষয়গুলো: নববধূ ধর্ষণ ও মুজিবের সরাসরি হস্তক্ষেপ সিরাজ সিকদারের হত্যাকাণ্ড ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু জাসদের ৪০ হাজার কর্মীর হত্যাযজ্ঞ সংবাদপত্র নিষিদ্ধকরণ বাকশাল ও একদলীয় শাসন শেখ মুজিবের বিতর্কিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত
আপনার মতামত লিখুন