কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে বিশাল জনসভা করেছে বাজিতপুর ও নিকলী বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজিতপুর উপজেলা সদরের সড়কগুলোতে বাদ্য-বাজনাসহ মিছিল করেন কর্মীরা। শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে মিছিলে অংশ নেন তারা।মিছিল শেষে উপজেলার ডাক বাংলো মাঠে এক বিশাল সমাবেশে প্রায় ১০ হাজার এর অধিক নেতাকর্মী মিলিত হন। সমাবেশে কর্মীদের স্লোগানে মুখরিত ছিল পুরো এলাকা। স্লোগানগুলোর মধ্যে ছিল—‘দুর্দিনের ইকবাল ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘ইকবাল ভাই যোগ্য লোক, মনোনয়ন তারই হোক’ এবং ‘এ আসনে প্রার্থী যারা, ইকবাল ভাই সবার সেরা’।সমাবেশ থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা হাইকমান্ডের প্রতি সরাসরি আলটিমেটাম দেন। বক্তারা দৃঢ়তার সাথে বলেন:দু’ যুগের বেশি সময় ধরে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বাজিতপুর-নিকলী বিএনপির নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে সাথে ছিলেন। ফ্যাসিস্ট আমলের ১৬ বছর জেল-জুলুমে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থেকেছেন, সঙ্কটে সহযোগিতা করেছেন। তাই তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে তা মেনে নেয়া হবে না।নেতাকর্মীরা আরও জানান, দলের দুর্দিনে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল মামলা-হামলা উপেক্ষা করে বিএনপিকে উজ্জীবিত রেখেছেন। যদি দলের বাইরে জোটের কারো পক্ষে মনোনয়ন যায়, তবে তারা সেই প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করবেন।সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য দেন মনোনয়ন প্রত্যাশী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া, বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোস্তফা আমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মামনুন রহমান পুটনসহ উপজেলা যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ।উল্লেখ্য, বিএনপি দেশের ২৩৭টি আসনে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণা করলেও কিশোরগঞ্জ-১ ও কিশোরগঞ্জ-৫—এই দুটি আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। জানা গেছে, বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা মিত্র দলগুলোর প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের জন্য এসব আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
২৩ নভেম্বর ২০২৫